1 min read

শীতকালে কোমল ও স্বাস্থ্যবান ত্বক পেতে যা করতে পারেন

শীতের সময় ত্বকের যত্ন নেয়া আলাদা ঝক্কি ও অস্বস্তির কারণ হতে পারে। কনকনে ঠান্ডা, শুষ্ক ও রুক্ষ বায়ু ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও প্রাকৃতিক তেল খুব সহজেই শুষে নেয় । এর ফলে, আপনি ত্বকে অস্বস্তি, টানটান ভাব ও শুষ্কতা অনুভব করতে পারেন।

তবে, সঠিক ভাবে ত্বকের যত্ন নিলে ও একটু মনোযোগ দিলেই আপনি শীতের পুরো মৌসুম জুড়ে স্বাস্থ্যবান উজ্বল ত্বক বজায় রাখতে পারেন। এই রচনায় আমরা শীতকালে কোমল ও স্বাস্থ্যবান ত্বক পেতে যা যা করতে পারেন সে সম্পর্কে আলোচনা করবো:

শীতকালে ত্বকের কোন কোন সমস্যা বেশি হয় তা খুঁজে বের করুন:

শীতের সময় ঘরের ভিতরের ও বাইরের আর্দ্রতা হ্রাসের কারণে, অতি দ্রুত ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে প্রায় সব ধরনের ত্বকেই টানটান ভাব ও শুষ্কতা দেখা যায়। শুধু মুখ নয়, সারা শরীরেই শুষ্কতার কারণে অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। এছাড়াও অনেকের ত্বক ফেটে যায় ও ফাঙ্গাসের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।

শীতকালে ত্বকের যত্নে ময়েশচরাইজার অন্যতম হাতিয়ার

শীতকালে ত্বকের আর্দ্রতা বাড়াতে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এজন্য এমন পণ্য বেছে নিন যা শুষ্ক ও খসখসে আবহাওয়াতেও আপনার ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা করবে।

কী ধরনের পণ্য ব্যবহার করবেন সে সম্পর্কে এখানে কিছু টিপস দেয়া হলো:

তেলসমৃদ্ধ ক্রিম: শীতকালে তেলসমৃদ্ধ ক্রিমযুক্ত ময়েশচরাইজার বেছে নিন। এই ধরনের পণ্য ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে পাতলা লোশনের তুলনায় ভালো কাজ করে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন: এই ক্রিম মুখে ও শরীরে লাগান। বিশেষ করে শুষ্ক স্থানে বেশি মনোযোগ দিন। যেমন, হাত, পা, কনুই এবং হাঁটুতে লাগান।

লেয়ারিং করুন: সর্বোচ্চ ফলাফল পেতে লেয়ার বা প্রলেপ তৈরি করুন। এজন্য প্রথমে, হাইড্রেটিং সেরাম দিয়ে শুরু করতে পারেন। এরপর ময়েশচরাইজার ব্যবহার করুন। এবং সবশেষ বাম বা তেল ব্যবহার করে ময়েশচরাইজার লক করে দিন।

এক্সফোলিয়েট করা: উজ্জল ত্বকের চাবিকাঠি

শীতে নিয়মিত এক্সফোলিয়েট করা উচিত। অতিরিক্ত শুষ্কতার কারণে যখন হাত পায়ের চামড়া শুকিয়ে মরে যায়, সে সময়ে ত্বক নিষ্প্রাণ দেখায়। তখন এই মরা কোষ তুলে ফেলার জন্যই মূলত এক্সফোলিয়েট করতে হয়। নাহলে, শুধু ক্রিম দিয়ে ত্বকের নিষ্প্রাণ ভাব দূর করা সম্ভব হয় না। তবে এক্সফোলিয়েটের সময় লক্ষ্য রাখবেন, তা যেন অতিরিক্ত রুক্ষ পদার্থ ও জোরে জোরে না ঘষা হয়।

বিচক্ষণতার সাথে এক্সফোলিয়েটর বেছে নিন: মৃদু ও আর্দ্রতা যুক্ত এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করুন। এতে ত্বক লাল হবে না অথবা ছিলে যাবে না।

কতবার ব্যবহার করবেন: ত্বকের প্রদাহ থেকে বাঁচতে সপ্তাহে একবার বা দুইবার এক্সফোলিয়েট করুন।

সংবেদনশীল ত্বক: সংবেদনশীল ত্বকের জন্য এমন এক্সফোলিয়েটর বেছে নিন, যা কেবল এ ধরনের ত্বকের উপযোগী করেই তৈরি করা হয়েছে।

সূর্যের কড়া তাপ থেকে সুরক্ষা: স্বাস্থ্যজ্জ্বল ত্বকের জন্য বছরব্যপী প্রয়োজন

সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি অন্যান্য সময়ের মতো শীতেও একই রকম ক্ষতি করে থাকে। তাই আপনার ত্বককে অতি বেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচানো জরুরী। এজন্য নিচের পদক্ষেপ নিতে পারেন:

  • এসপিএফ ৩০ বা এর বেশি: বাইরে গেলে অবশ্যই ব্রড স্প্রেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন যা নিদেনপক্ষে এসপিএফ ৩০ হয়।
  • পুনরায় ব্যবহার করুন: অতিরিক্ত সময়ের জন্য বাইরে থাকতে হলে প্রতি ৪০ মিনিট পর পর মুখ ধুয়ে পুনরায় ব্যবহার করুন।

পর্যাপ্ত পানি পান ও বিশ্রাম: নরম উজ্জ্বল ত্বকের জন্য প্রয়োজন

আপনার প্রতিদিনের জীবন যাপন আপনার ত্বকের উপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে থাকে। এজন্য:

  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন: সারাদিনে কমপক্ষে আট গ্লাস তরল বা পানীয় পান করুন। এতে আপনার দেহে পানির ভারসাম্য ঠিক থাকবে।
  • ভালোভাবে ঘুমান: আপনি যাতে পর্যাপ্ত সময় বিশ্রাম পান তা নিশ্চিত করুন। ত্বক মেরামত এবং পুনরুজ্জীবনের জন্য ঘুম অপরিহার্য।

বাড়তি যত্নের জন্য কিছু অতিরিক্ত টিপস

  • হিউমিডিফায়ার: অতিরিক্ত শুষ্ক আবহাওয়া দূর করতে আপনার ঘরে বা অফিসে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন, যা বাতাসে আর্দ্রতা ফিরিয়ে দিবে।
  • ডায়েট: প্রাকৃতিকভাবে আপনার ত্বককে পুষ্ট ও রক্ষা করতে, খনিজ, ভিটামিন, ওমেগা -3 ফ্যাটি অ্যাসিড এবং প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ একটি সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
  • মৃদু ক্লিনজিং: ত্বক পরিষ্কার করতে সর্বদা হালকা গরম জল এবং মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করুন। রুক্ষ সাবান এবং গরম পানি এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।কারণ, এগুলো প্রাকৃতিক তেলের স্তর নষ্ট করে ফেলতে পারে।
  • বিশেষ চিকিৎসা: বিশেষ যত্নের জন্য হাইড্রেটিং মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।
  • পেশাদার পরামর্শ: যদি আপনার ক্রনিক ত্বকের সমস্যা থাকে, তাহলে ব্যক্তিগতভাবে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করুন। ত্বকের সমস্যা থাকলে ত্বকের যত্নে না জেনে কোনো পণ্য ব্যবহার করবেন না। প্রথমে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করে তাঁর নির্দেশনা অনুসারে ওষুধ প্রয়োগ করে অসুস্থতা নিরাময় করুন।

সারসংক্ষেপে

শীতকালীন ত্বকের যত্ন খুব জটিল কিছু নয়। সঠিকভাবে পানি পান এবং বিশ্রামের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে সঠিক ময়শ্চারাইজেশন, মৃদু এক্সফোলিয়েশন, সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষা এবং জীবনযাত্রার সাথে সামঞ্জস্য করে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চললেই, আপনি শীতের রুক্ষতা দূর করে আপনার ত্বক সুন্দর রাখতে পারবেন। এই অভ্যাসগুলো অনুসরণ করে শীতকালেও আপনি কোমল ও স্বাস্থ্যবান ত্বক পেতে পারেন। যা শীতের ঠান্ডা ঠান্ডা ভাবকে আরও জমিয়ে তুলবে।